টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের পাকুটিয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে অবস্থিত সৎসঙ্গ আশ্রম। ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিও জড়িয়ে রয়েছে এই আশ্রমকে ঘিরে। স্থানটি এলাকার ইতিহাস, মানবিক মূল্যবোধ এবং আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আধ্যাত্মিক চর্চার পরিচিত কেন্দ্র
পাকুটিয়া সৎসঙ্গ আশ্রম শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আদর্শ ও ভাবধারার অনুসারীদের কাছে একটি পরিচিত ধর্মীয় কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, প্রার্থনা, সমাবেশ ও ভক্তদের মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পাকুটিয়া সৎসঙ্গ আশ্রম
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকুটিয়া অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে, পাকুটিয়া সৎসঙ্গ আশ্রম মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও অবস্থানের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এ কারণে পাকিস্তানি বাহিনী একাধিকবার এলাকাটিতে হামলা চালায় বলে স্থানীয় ইতিহাসে বর্ণনা রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আশ্রমে প্যারীমোহন আদিত্য ও ধর্মপ্রচারক বামাচরণ পারশব শর্মা শহীদ হন বলে প্রকাশিত ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের আত্মত্যাগ পাকুটিয়ার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি বেদনাবিধুর অধ্যায়।
ইতিহাস সংরক্ষণে প্রয়োজন উদ্যোগ
পাকুটিয়া সৎসঙ্গ আশ্রমের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি। আশ্রমের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং সংশ্লিষ্ট শহীদদের জীবনকথা নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষণ করা গেলে স্থানীয় ইতিহাসচর্চা আরও সমৃদ্ধ হবে।
এ জন্য আশ্রম কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, ইতিহাস গবেষক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে ঐতিহাসিক তথ্যফলক স্থাপন, পুরোনো নথি সংগ্রহ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
ঐতিহ্য ও আত্মত্যাগের স্মারক
পাকুটিয়া সৎসঙ্গ আশ্রম কেবল ধর্মীয় উপাসনার স্থান নয়; এটি ঘাটাইলের ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। ইতিহাসের এই অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও আত্মত্যাগের শিক্ষা দিতে পারে।
তথ্যসূত্র:



পাঠকের মন্তব্য
0টি মন্তব্য